শিরোপার সামনে পাশের বাড়ির ছেলে

hhhhhhhhh

কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের লবিতে, মিথুন পেরেরাকে কথা বলবার জন্য যেখানে থামালাম, তার ঠিক পাঁচ ফুট দূরে একটি ডায়াসের ওপর বসানো বাংলাদেশ ওপেনের ট্রফিটা। তৃতীয় রাউন্ডটা সবার চেয়ে ভালো খেলে শিরোপার খুব কাছাকাছি চলে এসেছেন এই শ্রীলঙ্কান গলফারও। কাল খেলেছেন ৫ আন্ডারপার, সব মিলিয়ে ১০ আন্ডারপার নিয়ে লিডারবোর্ডের দুইয়ে। তাঁর চেয়ে মাত্র ১ শট কম খেলে শীর্ষে ব্রিটিশ গলফার জ্যাক হ্যারিসন।

শ্রীলঙ্কা বরাবরই বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী। দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপদেশটি বাংলাদেশিদের জন্য খুলে রেখেছে অবারিত প্রবেশদ্বার। মিথুনও সেই ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশে আসতে আসতে স্থানীয় গলফারদের বন্ধু হয়ে গেছেন। শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত গলফার, ১৯৯০-এর বেইজিং এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা নন্দসেনা পেরেরার ছেলে অ্যামেচার টুর্নামেন্ট খেলতেও বহুবার এসেছেন বাংলাদেশে। তাঁর বাবার জীবনের গল্পটাও সিদ্দিকুর রহমানের জীবনের গল্পের মতো; কিংবা বলা চলে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক গলফারের মতোই। নন্দসেনা থাকতেন গলফ ক্লাবের পাশে, বল কুড়িয়ে আর ক্যাডিগিরি করে খেলা শিখে তবেই হয়েছিলেন গলফার। সেই বাবার ছেলে মিথুনের সঙ্গে সিদ্দিক, জামালদের সখ্য বহু আগে থেকেই। মাঠের খেলায় সেই সখ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বদলেছে অনেকবারই, কিন্তু কখনোই কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বড় মাপের আসরে স্থানীয় গলফারদের চাপে ফেলতে পারেননি মিথুন। এবার পারলেন। বৃষ্টি বাগড়া না দিলেও ঝোড়ো বাতাস আর কমে আসা আলোয় খেলার পরিবেশটা হয়ে উঠেছিল প্রতিকূল। কালকের দিনে জামাল পিছলেছেন শীর্ষস্থান থেকে, নেমে গেছেন সাতে।  মিথুন উঠেছেন তরতরিয়ে। ১০ আন্ডারপার খেলে বাংলাদেশ ওপেন জেতার জোরালো দাবি নিয়েই আজ সকালে ফের খেলা শুরু করবেন মিথুন।

বছরের অর্ধেকও এখনো গড়ায়নি, এই নিয়ে ঢাকায় চারবার এসেছেন মিথুন। চিটাগং ওপেন, পিজিটিআই ও অন্য একটি পেশাদার টুর্নামেন্টে খেলে গেছেন। কোনোটাতেই চমকপ্রদ কোনো পারফরম্যান্স ছিল না। বরং চিটাগং ওপেনের শিরোপা জিতে গেছেন তাঁরই স্বদেশি এন থাঙ্গারাজা, ঢাকা ওপেনে হয়েছিলেন ১৫তম। বাংলাদেশ ওপেনের প্রথম দুই আসরে খেলেছিলেন, সেখানেও অবস্থান ছিল ত্রিশের কাছাকাছি। বাংলাদেশ ওপেনে গত তিন আসরে পূর্ব এশীয় গলফারদেরই বেশি সফল হতে দেখা গেছে, এবার সেই ধারা ভেঙে বেশ সম্ভাবনাময় একটা অবস্থানে শ্রীলঙ্কার মিথুন।

চেনা কোর্স বলেই কি খানিকটা এগিয়ে আছেন—এমন প্রশ্নে মিথুনের উত্তর, ‘আমি অনেকবারই এসেছি, এটা ঠিক। তবে কুর্মিটোলা গলফ কোর্সের লে-আউট, বিশেষ করে ব্যাক নাইন বা শেষ ৯টা হোলের বিন্যাস কিন্তু বেশ কঠিন এবং চাতুর্যপূর্ণ। আর আজ যদিও বৃষ্টিতে খেলা থামেনি একবারও, তবে কোর্সে খেলা যতটা সহজ মনে হচ্ছে ততটা সহজ কিন্তু নয়। বেশ বাতাস বইছে, বৃষ্টিতে ঘাসের ওপর বল চলার গতি বেড়ে গেছে, বল প্রত্যাশিত জায়গায় থামছে না। আজ আমার খেলা কোর্সের সঙ্গেই, চাই না অন্য কেউ খারাপ করুক। আমি আমার খেলাটা খেলতে চাই।’

নিদাহাস ট্রফি কাভার করতে গিয়ে দেখে এসেছি স্কুল ক্রিকেট আর রাগবি নিয়ে সিংহলবাসীর উত্তেজনা। কলম্বো শহরজুড়ে অজস্র ক্রিকেট ক্লাব, ১৯৯৬-র বিশ্বকাপজয়ীদের দেশে জনপ্রিয়তায় ক্রিকেটই এগিয়ে। এর বাইরে ফুটবল, অ্যাথলেটিকসসহ অন্যান্য খেলার ভিড়ে গলফের জায়গা কতটুকু? উত্তরে মিথুন জানালেন, ‘ক্রিকেট তো জনপ্রিয় হবেই, দক্ষিণ এশিয়ায় এটাই স্বাভাবিক। গলফ খেলাটা ব্যয়বহুল, রয়্যাল কলম্বো গলফ ক্লাবের সদস্য হতেও অনেক টাকা লাগে। শ্রীলঙ্কায় বেশ কিছু গলফ কোর্স আছে, পিজিটিআইয়ের টুর্নামেন্টও হয় বছর-দুই বছরে। আস্তে আস্তে গলফও জনপ্রিয় হচ্ছে।’

শীর্ষে থাকা জ্যাক হ্যারিসনের সঙ্গে মাত্র ১ শটের পার্থক্যে দুইয়ে আছেন মিথুন। প্রথম এশিয়ান ট্যুর শিরোপা জেতার প্রত্যাশার ব্যাপারে জানালেন, ‘আমি তিনবার ১ শটের ব্যবধানে শিরোপা খুইয়েছি। এখনই কিছু বলতে চাই না। তবে এটা বলতে পারি, বাংলাদেশ আমার কাছে বাড়ির মতো। অনেকবার এসেছি, অনেক বন্ধু আছে। এমনকি শ্রীলঙ্কার চেয়েও বেশি আপন মনে হয়! এখানেই যদি প্রথম শিরোপা জিততে পারি, তাহলে এর চাইতে স্মরণীয় আর কিছুই হতে পারে না।’