অত্যাচারী পুলিশ আমাদের দরকার নেই: ড. মিজান

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবুল মাতুব্বর মারা যান। এর কিছুক্ষণ পর বার্ন ইউনিটে পৌঁছান ড. মিজানুর রহমান। এ সময় বাবুলের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন তিনি।
ড. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ যে বাড়াবাড়ি করছে তা চরম পর্যায়ে পৌছেঁছে। পুলিশের এ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে সমাজ তথা পুলিশ বাহিনীর ওপর প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, একজন সাধারণ চা বিক্রেতা বাবুল মাতুব্বর মারধর তথা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেলেন। তিনি আর ফিরে আসবেন না। কিন্তু তার পরিবারটি এখন কিভাবে চলবে?
পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন পুলিশের এখন লাগাম টেনে ধরা দরকার।
তিনি আরো বলেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছেন পুলিশ মানুষের বন্ধু। তাহলে একজন সাধারণ চা বিক্রেতা কেন পুলিশের অত্যাচারের শিকার হলো। এমন পুলিশ আমাদের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর শাহআলী থানাধীন গুদারাঘাটে চাঁদার টাকা না পেয়ে চা দোকানি বাবুল মাতুব্বরের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় পুলিশ। এরপর দ্বগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
ওই সময় বাবুল মাতুব্বরের ছেলে রাজু যুগান্তরকে জানান, গুদারাঘাটে কিংশুক বহুমুখী সমিতির গেটের পাশে রাস্তায় বাবুল মাতুব্বরের চা দোকান। চুলা হিসেবে কেরোসিনের স্টোভ ব্যবহার করেন।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহআলী থানা পুলিশের একটি টহল টিম মাইক্রোবাসে তার দোকানে যায়। রাস্তায় দোকান বসানোর জন্য পুলিশ তার কাছে চাঁদা চায়।
বার্ন ইউনিটে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসা নেয়ার সময় দগ্ধ বাবুল মাতুব্বর চিৎকার করে বলেন, আমি বলি টাকা দেব কেন? এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্ক হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠি দিয়ে স্টোভের চুলায় আঘাত করে। স্টোভের কেরোসিন ছিটকে তার গায়ে পড়ে আগুন ধরে যায়। দোকানেও আগুন লাগে। এতে তিনি দগ্ধ হন।
বাবুলের পুত্রবধূ মনি আক্তার বলেন, যার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় তার গায়ে পুলিশের পোশাক দেখেছেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গাড়ি নিয়ে চলে যায়।
তবে শাহআলী থানা পুলিশের দাবি, পুলিশ নয় পুলিশের সোর্সের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্টোভের চুলা পড়ে গিয়ে আগুন ধরে যায়। এতে বাবুল মাতুব্বর দগ্ধ হন।
শাহআলী থানার ওসি একেএম শাহীন মণ্ডল বলেন, বাবুল চা বিক্রির পাশাপাশি গাঁজা বিক্রি করে। রাতে থানার সোর্স দেলোয়ার ওই দোকানে যায়। তার সঙ্গে দেলোয়ারের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে স্টোভের চুলা পড়ে গিয়ে আগুন ধরে যায়। এ সময় দেলোয়ার পালিয়ে যায়। আগুনের খবর পেয়ে পরে পুলিশ সেখানে যায়। এর আগে পুলিশ সেখানে চাঁদার টাকা নিতে যায়নি বলে দাবি করেন ওসি।
এদিকে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে পুলিশের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।