পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আপাতত ছিন্ন হচ্ছে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

86cf6cbd59f712f5afbac59f29e35079-hasan-mahmud-ali-1

বাংলাদেশ আপাতত পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এ কথা বলেছেন।
এ ছাড়া প্রশ্নোত্তর পর্বে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের মন্তব্য, আফ্রিকায় জমি লিজ, কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ও বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি বন্দীর সংখ্যা বিষয়গুলো এসেছে।
এক সম্পূরক প্রশ্নে সরকারি দলের আবদুল মান্নান জানতে চান, বাংলাদেশে পাকিস্তান দূতাবাসের এক কর্মীকে আটকের পরপরই পাকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন নিখোঁজ হয়ে যান। পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মীকে ছেড়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশের নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ শিক্ষা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এ অবস্থায় পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা জরুরি কি না?

জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, ‘কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চললে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় না। যুদ্ধের সময়ও সম্পর্ক বজায় থাকে। আজ পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আপাতত আমরা সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাচ্ছি না। সময়কে বিবেচনায় নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থ মাথায় রাখতে হবে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মূল্যায়ন করি এবং পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। পাকিস্তানের ​ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য হবে। ভবিষ্যৎই বলে দেবে সম্পর্ক কোন দিকে যাবে।’

ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় প্রদান ও কার্যকর করার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বরাবরই যথাযথ এবং জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অন্য দেশ হতেও একই ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করি। কিন্তু পাকিস্তান বারবার আমাদের হতাশ করেছে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অযাচিত বিবৃতি/মন্তব্য অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। পাকিস্তানকে এ কথা কঠোরভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ করবে আমরা আশা করি।’